
দুর্গাপূজা বিধি
দুর্গাপূজা বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসব ও প্রধান শারদীয়া পূজা। শুক্লা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চণ্ডীপাঠ, অকাল বোধন, সন্ধিপূজা, কুমারী পূজা ও নবপত্রিকা স্নান — এই সকল অনুষ্ঠান বাংলার ঘরে ঘরে এবং সার্বজনীন মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি গণনা করা হয়।
আশ্বিন শুক্লা ষষ্ঠী–দশমী (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর)
ষষ্ঠীতে অকাল বোধন, অষ্টমী-নবমী সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা
Puja Samagri (Items Required)
- দুর্গা প্রতিমা (মৃৎশিল্প)
- চণ্ডীপাঠ পুঁথি
- নবপত্রিকা (কলাবউ সহ ৯ উদ্ভিদ)
- বেলপাতা, অপরাজিতা ফুল, জবা
- ঘৃত প্রদীপ (১০৮ টি), ধূপ, কর্পূর
- সিঁদুর, আলতা, চন্দন
- পঞ্চামৃত: দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি
- নারকেল, কলা, তামোল-পান
- চালকুমড়ো (বলির বিকল্প)
- ঢাক ও কাঁসর-ঘণ্টা
Puja Procedure — Steps
অকাল বোধন — ষষ্ঠী
বেলগাছের তলায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠান হয়। রাম কর্তৃক অকালে দেবীকে জাগানোর বৈদিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। নবপত্রিকা স্নান ও আধিবাসিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
সপ্তমী পূজা
নবপত্রিকাকে (কলাবউ) শাড়ি পরিয়ে প্রতিমার পাশে স্থাপন করা হয়। ষোড়শোপচারে পূজা আরম্ভ হয়। চণ্ডীপাঠ চলে। ঢাকের বোল ও উলুধ্বনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অষ্টমী ও সন্ধিপূজা
অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে ১০৮ প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই ৪৮ মিনিটের মধ্যে দেবীর চামুণ্ডা রূপের আবির্ভাব বলে বিশ্বাস। কুমারী পূজায় কুমারী কন্যাকে দেবীর জীবন্ত প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করা হয়।
নবমী হোম ও ভোগ
নবমী তিথিতে হোমানল প্রজ্বলিত করা হয়। চালকুমড়ো দিয়ে প্রতীকী বলিদান সম্পন্ন হয়। মহাভোগে খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস, চাটনি — বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ভোগ পরিবেশন করা হয়।
দশমী বিসর্জন ও সিঁদুর খেলা
দশমীতে দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। বিবাহিত মহিলারা পরস্পরকে সিঁদুর খেলায় মাতেন। "আশছে বছর আবার হবে" বলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
Main Mantra
ওঁ জয়ন্তী মংগলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী । দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তুতে ॥ সর্বমংগলমংগল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে । শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোঽস্তুতে ॥
Benefits of this Puja
দুর্গাপূজায় সকল বিঘ্ন দূর হয়, গৃহে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে, শত্রু থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং মাতৃশক্তির আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ ও ধর্মের জয় সম্ভব হয়।