
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বিধি
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থ পূজা। আশ্বিন পূর্ণিমায় (দুর্গাপূজার পরে) প্রতিটি বাঙালি ঘরে লক্ষ্মীদেবীর আলপনা আঁকা হয়, পেঁচা সহ লক্ষ্মীর ঘট স্থাপন করা হয় এবং রাত জেগে দেবীকে আহ্বান করা হয়। "কো জাগর্তি" — অর্থাৎ কে জেগে আছ — এই প্রশ্নের উত্তরে ভক্তরা জাগ্রত থেকে দেবীকে স্বাগত জানান।
আশ্বিন পূর্ণিমা (দুর্গাপূজার পরে — অক্টোবর)
সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত — পূর্ণিমার চাঁদ ওঠার পর
Puja Samagri (Items Required)
- লক্ষ্মীর ঘট (পেঁচা চিহ্নিত)
- চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা
- ধানের শিষ, কলাপাতা
- চিঁড়ে, দই, নারকেলের নাড়ু
- পদ্মফুল বা সাদা ফুল
- ঘৃত প্রদীপ, ধূপ, কর্পূর
- সিঁদুর, হলুদ, চন্দন
- পান-সুপারি, নারকেল
Puja Procedure — Steps
আলপনা ও ঘট স্থাপন
গৃহের প্রবেশদ্বার থেকে ঠাকুরঘর পর্যন্ত চালের গুঁড়ো দিয়ে লক্ষ্মীর আলপনা আঁকুন — পদচিহ্ন, ধানের শিষ, পদ্ম ও পেঁচার নকশা। ঘটে জল ভরে আমপাতা ও নারকেল দিন।
ষোড়শোপচার পূজন
দেবী লক্ষ্মীকে পদ্ম, সাদা ফুল, চন্দন, ধূপ, দীপ দিয়ে পূজা করুন। "ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ" মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন।
লক্ষ্মী পাঁচালী পাঠ
পরিবারের সকলে একত্রে বসে লক্ষ্মী পাঁচালী পাঠ করুন। এটি বাঙালি গৃহস্থ পূজার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পাঁচালীতে লক্ষ্মীর কৃপা ও অবহেলার পরিণাম বর্ণিত আছে।
নৈবেদ্য
চিঁড়ে, দই, কলা, নারকেলের নাড়ু, মিষ্টি — এই সবকিছু দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করুন। পায়েস বিশেষভাবে তৈরি করুন।
আরতি ও রাত্রি জাগরণ
লক্ষ্মী আরতি করুন। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় রাত জেগে থাকুন — এটাই "কো জাগর্তি" পালন। প্রসাদ বিতরণ করুন।
Main Mantra
ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ । নমস্তেঽস্তু মহামায়ে শ্রীপীঠে সুরপূজিতে । শঙ্খচক্রগদাহস্তে মহালক্ষ্মি নমোঽস্তুতে ॥
Benefits of this Puja
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় গৃহে ধনসম্পদ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শস্য সুরক্ষা এবং পরিবারে সুখ-শান্তি প্রাপ্ত হয়। রাত্রি জাগরণে দেবী বিশেষ কৃপা করেন বলে বিশ্বাস।